চাচা আবু তালিবের কাছে বিচার

ফিকহুস সিরাত – ৯    আবু তালিব কুরাইশদের ধর্মেরই একজন অনুসারী ছিল। ভাতিজা মুহাম্মাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবস্থান অন্যা্ন্যদের মতো হবে এটাই স্বাভাবিক ছিল। এ কারণে কুরাইশের অন্যান্য নেতৃবর্গ আবু তালিবের কাছে বিচারপ্রার্থী হলো। তারা এসে বলল, ‘হে আবু তালিব, তোমার ভাতিজা তো আমাদের উপাস্যদের গালমন্দ করেছে, আমাদের ধর্মের দোষ বর্ণনা করেছে, আমাদের […]

প্রকাশ্য দাওয়াতের সূচনা

ফিকহুস সিরাত – ৮    নবুওয়াতের তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যখন কিছু মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে তখন আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় রাসুল সা.কে প্রকাশ্যে দাওয়াত প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন। সে সময়ে কুরআনের এই আয়াত দুটি অবতীর্ণ হয়— অতএব আপনাকে যা আদেশ করা হয় আপনি তা প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন এবং মুশরিকদের উপেক্ষা করুন।[1] এবং আপনি […]

দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়

ফিকহুস সিরাত – ৭    আল্লাহ তাআলা যখন সুরা মুদ্দাসসিরের এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন— হে চাদরাবৃত, ওঠো এবং মানুষদের সতর্ক করো আর তুমি নিজ প্রতিপালকের বড়ত্ব ঘোষণা করো।[1] তখন থেকে রাসুলুল্লাহ সা.’র দাওয়াতি কার্যক্রম গোপনীয়তার সাথে শুরু হয়। দাওয়াতের এই ধারা বহাল ছিলো সর্বসাকুল্যে তিন বছর।[2] সুরা হিজরের নিম্নলিখিত আয়াতের মাধ্যমে সেই ধারার পরিসমাপ্তি ঘটে […]

ওহি অবতরণের বিরতি

হেরা গুহায় জাগরণের অবস্থায় প্রথম ওহিস্বরূপ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘদিন পর্যন্ত আর কোনো ওহি অবতীর্ণ হয়নি।[1] এ সময়টা রাসুলুল্লাহ সা.-এর জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় ছিলো। সহিহ বুখারির সূত্রে ওপরে ওয়ারাকা রা.-এর কথা উল্লেখিত হয়েছে। সেই বর্ণনায় উপরিউক্ত অংশের শেষে রয়েছে, ‘এর কিছুদিন পর ওয়ারাকা রা. ইন্তেকাল করেন। আর […]

প্রথম ওহি-৩

ফিকহ   ১. আল্লাহ তাআলা যাকে সামাজিক সংস্কার এবং সংশোধনমূলক পদক্ষেপের জন্য কবুল করেন, তার অন্তরে সমাজে ছেয়ে যাওয়া গোমরাহি এবং ভ্রষ্টতার ব্যাপারে ঘৃণা সৃষ্টি করে দেন। সমাজে প্রচলিত ধারার প্রতি অনীহা এবং আক্রোশ থেকেই মূলত সে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে উদ্যোগী হয়। আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সা.-এর অন্তরে পৌত্তলিকতা-মূর্তিপূজার প্রতি চূড়ান্ত পর্যায়ের ঘৃণা সৃষ্টি করে […]

প্রথম ওহি-২

রাসুলুল্লাহ সা. তার জীবনের চল্লিশতম বছরে, গুহার ধ্যানমগ্নতার তৃতীয় বছরে এবং ওহিস্বরূপ স্বপ্ন দেখার ধারাবাহিকতার ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পরে জাগরণের অবস্থায় প্রথম ওহি প্রাপ্ত হন। এই ওহি প্রাপ্ত হওয়ার পূর্বেই এমন অনেক আলামত প্রকাশ পেয়েছিলো, যা তার বিশেষত্ব এবং নবুওয়াতের প্রতি ইঙ্গিত বহন করছিলো। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন— ‘নিশ্চয়ই আমি মক্কার সেই পাথরটিকে চিনি, আমি […]

প্রথম ওহি-১

রাসুলুল্লাহ সা.-এর বয়স তখন উনচল্লিশ বছর পেরিয়ে আরও ছয় মাস। তাঁর গুহায় ধ্যানমগ্নতার কাল হয়ে গেছে প্রায় আড়াই বছর। জাহিলিয়াতের প্রতি, জাহেলি মানুষগুলোর প্রতি, তাঁর পরবর্তী নবুওয়াতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলোর প্রতি বেজায় রকম ঘৃণা জন্মেছে তাঁর অন্তরে। শৈশব থেকেই তিনি পৌত্তলিকতা এবং কাব্য-গীতির প্রতি ঘৃণা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন— ‘যখন আমি বেড়ে […]

গুহার ধ্যানমগ্নতা-২

ফিকহুস সিরাত গুহার ধ্যানমগ্নতা : ফিকহ    ১. উপরিউক্ত সিরাতের ফিকহ সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে প্রথম যে বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে, তা হলো: নির্জনতা এবং একাকিত্ব গ্রহণের বিধান। আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সা.-কে নবুওয়াতের মহান গুরুদায়িত্ব অর্পণ করার পূর্বে তাঁর তারবিয়াতের অংশ হিসাবে নির্জনতাকে তাঁর কাছে প্রিয় করে তুলেছিলেন; যার বিস্তারিত আলোচনা ওপরে উল্লেখিত হয়েছে। এর […]

গুহার ধ্যানমগ্নতা-১

ফিকহুস সিরাত-১    আমরা প্রতিটি আলোচনাকে দুই ভাগে ভাগ করে উপস্থাপন করবো। প্রথমে আমরা বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনায় সিরাত তুলে ধরবো। এরপর সেই সিরাতের আলোকে ফিকহ বয়ান করবো। এখানে গুহার ধ্যানমগ্নতা শিরোনামের অধীনে সিরাতের অংশটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই শিরোনামের দ্বিতীয় পর্বে ইন শা আল্লাহ আলোচ্যবিষয়ের ফিকহ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। আল্লাহ তাআলাই সর্বোত্তম তাওফিকদাতা।   যখন […]

রাসুলুল্লাহ সা. এর হাতে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি সমাজব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তিসমূহ

রাসুলুল্লাহ সা. মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর তাঁরই হাতে সর্বপ্রথম ইসলামি সমাজ ও রাষ্টব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই দারুল ইসলামের সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠাতা খোদ রাসুলুল্লাহ সা.। ইসলামি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মহান রাসুল কিছু মৌলিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে আমরা সেই মৌলিক পদক্ষেপ ও ভিত্তিগুলোর ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করার প্রয়াস পাবো। ইসলামি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ […]