বই : যেসব হারামকে অনেকেই তুচ্ছ মনে করে
লেখক : শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
অনুবাদক : আবদুল্লাহ ইউসুফ
সম্পাদক : মুফতি তারেকুজ্জামান তারেক
প্রকাশনী : রুহামা পাবলিকেশন
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১২০ পৃষ্ঠা
মুদ্রিত মূল্য : ১১০৳

আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের ওপর কিছু জিনিস আবশ্যক করেছেন, যার অন্যথা করা জায়িয নয়। কিছু সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা অতিক্রম করা বৈধ নয়। আর তিনি কিছু জিনিসকে নিষিদ্ধ করেছেন, যার ধারেকাছে যাওয়াও উচিত নয়।

পৃথিবীতে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার অধিকাংশ জিনিসই হালাল। কোনো ব্যাপারে হারাম হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেই তা হালাল বলে নির্ণীত হয়। আল্লাহ তাআলা যে জিনিসগুলোকে হারাম করেছেন, সেগুলোকে হারাম করার পেছনেও গভীর তাৎপর্য ও নিগূঢ় রহস্য লুকায়িত আছে। যেমন :

(১) আল্লাহ তাআলা হারাম দ্বারা বান্দাদের পরীক্ষা করেন। হারামের ব্যাপারে বান্দাদের অবস্থান কেমন হয়, এর সঙ্গে তাদের আচরণ কীরূপ হয়, তা তিনি লক্ষ করেন।

(২) এই হারামই জান্নাতি এবং জাহান্নামিদের মধ্যে পার্থক্য করে দেয়। যারা জান্নাতি হবে, তারা কষ্ট হলেও হারাম থেকে দূরে থাকে। পক্ষান্তরে যারা জাহান্নামি হবে, তারা প্রবৃত্তির পূজা করে দেদারসে হারামে লিপ্ত হয়ে নিজেদের জন্য জাহান্নামে আসন নিশ্চিত করে; যদি না রহমানের বিশেষ করুণ তাদের তা থেকে মুক্তি দান করে।

(৩) এর মাধ্যমে বান্দার ধৈর্যের প্রশিক্ষণ হয়। এভাবে ক্রমশ তার জন্য দীন পালন সহজ হয়ে যায়। দীনের জন্য যেকোনো ধরনের আত্মত্যাগ দিতে সে সর্বদা প্রস্তুত থাকে।

(৪) বান্দা যখন হারাম থেকে বিরত থাকে, তখন তার অন্তরে এ ভাবনা থাকে যে, এর বিনিময়ে সে আখিরাতে উত্তম কিছু পাবে। তখন সে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হারামকে এড়িয়ে চলে। আর এভাবে ক্রমশ তার মধ্যে ইমানের স্বাদ অনুভূত হতে থাকে।

আলোচ্য বইটির নাম দেখে প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, এতে বোধ হয় শুধু মাজলুম হারামগুলোরই আলোচনা এসেছে; যেগুলো হারাম হওয়া সত্ত্বেও মানুষ সেগুলোকে তুচ্ছ ভাবে, সেগুলোর সঙ্গে গুরুত্বহীন বস্তুর মতো আচরণ করে। কিন্তু বইটা পড়ে এ ধারণার সঙ্গে মিল পাইনি। বরং এটাকে সাধারণভাবে হারামের দলিলসমৃদ্ধ সূচিপত্র বলাই অধিক সংগত মনে হয়। হ্যাঁ, নব্য জাহিলিয়াতের যুগে এ বইয়ে উল্লেখিত অনেকগুলো বিষয়ই পরিত্যাজ্যপ্রায়। মুসলমানরাও দিনরাত অবলীলায় সেগুলোতে লিপ্ত হয়। এটা তো ধ্রুব সত্য; যা অস্বীকারের কোনো জো নেই। তবে বইটা শুধু বেছেবেছে পরিত্যাজ্য হারাম গুনাহের সংকলনই নয়; বরং এতে সন্নিবেশিত হয়েছে প্রসিদ্ধ অনেকগুলো হারামেরই দালিলিক বর্ণনা।

এ বইটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই। যা প্রতিটি মুসলিমের নিজের পড়া উচিত, ঘরে তালিম করা উচিত এবং পারলে বিষয়গুলো মুখস্থের মতো করে নেওয়া উচিত। যে ব্যক্তি হারাম থেকে যত বেশি বেঁচে থাকে, সে তত বড় মুত্তাকি এবং আল্লাহওয়ালা। কোনো ব্যক্তি হারামে লিপ্ত থেকে কখনো আল্লাহওয়ালা হতে পারে না। যেকোনো ফরজ বিধান লঙ্ঘন করাও হারাম; যেগুলোর বিবরণ এ বইয়ে আসেনি। এ ছাড়াও যেকোনো কবিরে গুনাহে লিপ্ত হওয়াও হারাম।

এ বইটি মূলত আরবি কোন বইয়ের অনুবাদ, তা আমার জানা ছিল না। বইয়ের ভূমিকা, প্রকাশকের কথা এবং সম্পাদকের কথা – সবগুলোতে চোখ বুলিয়েও বিষয়টির কোনো হদিস পাইনি। অনূদিত গ্রন্থগুলোতে সচরাচর মূল বইয়ের নাম লিখিত থাকে। এতে যেকোনো সমস্যা মনে হলে পাঠক সহজে মূল বইয়েরও দ্বারস্থ হতে পারে। কিন্তু এ বইয়ে কেন বিষয়টা চেপে যাওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়। তবে অধিক সম্ভাবনা হলো, এটা হয়তো অসতর্কতার ফল। পরবর্তীতে এক ভাইয়ের মাধ্যমে জেনেছি, এটি আরবি ‘মুহাররামাতুন ইসতাহানা বিহা কাসিরুন মিনান নাস’-এর অনুবাদ। এর আরেকটি অনুবাদ ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছিল।

সূচিপত্রের পর ৯ পৃষ্ঠা থেকে মূল বই শুরু হয়েছে। ৯ থেকে ১৭ পর্যন্ত ছিল মূল বইয়ের লেখকের ভূমিকা। অনুবাদকের কোনো কথা আলাদাভাবে বইয়ে সংযোজিত হয়নি। আর যেকোনো কারণে কাভারেও তার নাম শোভা পায়নি। ১৭ পৃষ্ঠা থেকে শুরু হয়েছে মূল বই। ১৭ থেকে শুরু করে ১২০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সর্বমোট ৭০টি হারামের আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়গুলো নিম্নরূপ :

১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক বা অংশীদার স্থাপন করা।
২. কবরপূজা
৩. আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে যবেহ করা
৪. মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল মনে করা।
৫. জাদু-ম্যাজিক ও ভাগ্যগণনা
৬. রাশিফল ও মানব জীবনের ওপর গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব সংক্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করা
৭. বস্তুসমূহের মধ্যে যে স্রষ্টা কল্যাণ রাখেননি, তাতে সে কল্যাণ লাভের বিশ্বাস পোষণ করা
৮. আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষকে দেখানোর জন্য ইবাদত করা
৯. কুলক্ষণ গ্রহণ করা
১০. আল্লাহর নাম ব্যতিরেকে অন্যের নামে কসম করা
১১. ঘনিষ্ঠতা বা খাতির জমাতে মুনাফিক ও ফাসিকের সঙ্গে উঠাবসা করা
১২. নামাজে ধীরস্থিরতা পরিহার করা
১৩. নামাজে অনর্থক কাজ ও অধিক নড়াচড়া করা
১৪. মুক্তাদি ব্যক্তি নামাজে ইচ্ছাকৃতভাবেই ইমামের আগে গমন করা
১৫. পেঁয়াজ-রসুন কিংবা দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু খেয়ে মাসজিদে আসা

এখানে উদাহরণস্বরূপ সেরেফ প্রথম পনেরোটি শিরোনাম উল্লেখ করেছি। এ ধরনের মোট সত্তরটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়েছে এ বইয়ে।

বইটির অনুবাদ মা শা আল্লাহ বেশ সুন্দর হয়েছে। তবে কিছু কিছু শব্দপ্রয়োগ একটু দৃষ্টিতে বেঁধেছে। যেমন : আল্লাহর সঙ্গে শিরক বা অংশীদার স্থাপন করা। এ বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায় : আল্লাহর সঙ্গে শিরক স্থাপন করা বা তার সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করা। অর্থাৎ ‘বা’ শব্দটা যেহেতু বিকল্পসূচক অব্যয়। এখন তা কার থেকে বিকল্প বুঝিয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যদি বলি, ‘শিরক’ থেকে বিকল্প, তাহলে বাক্যটা ভুল হয়। কারণ, অংশীদার শব্দটা শিরকের বিকল্প নয়। হ্যাঁ, অংশীদারত্ব শব্দ ব্যবহৃত হলে তা বিকল্প হতে পারত। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও বাক্যের শেষ শব্দের সঙ্গে তা আবার বিরোধপূর্ণ হয়ে যেত। এ ছাড়াও ‘বা’ অব্যয়টিকে যদি আগের পুরো অংশের বিকল্প ধরি, সে ক্ষেত্রেও বাক্যটা মেলে না। কারণ, তখন বাক্যটা এরূপ হওয়া দরকার ছিল : আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা বা তার সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করা। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে ‘তার সঙ্গে’ অংশটা বাড়ানো জরুরি ছিল।

এ ছাড়াও ‘অংশীদার স্থাপন করা’ কথাটা কেমন শ্রুতিকটু লাগে। আমরা সাধারণত ‘অংশীদার সাব্যস্ত করা’ বলি। ‘সাব্যস্ত’-এর জায়গায় ‘স্থাপন’ আমার কাছে একটু অন্যরকমই ঠেকেছে। কারণ, ‘অংশীদার’ তো কোনো ভবন বা খুঁটি নয় যে, তা স্থাপন করা হবে। স্থাপন শব্দের অর্থ হলো, ১. নিৰ্মাণ। ২. নিয়োজন, নিবেশন। ৩. আরোপন (বিশ্বাস স্থাপন)। ৪. রক্ষণ। ৫. প্রতিষ্ঠা (দৃষ্টান্ত স্থাপন)।

এ ধরনের দু-চারটি বিষয় ছাড়া সার্বিক বিচারে অনুবাদ অনেক সুন্দর হয়েছে। হ্যাঁ, বইয়ের বানানরীতিটা ছিল দৃষ্টিকটু। তারা যে কোন ধারার বানানরীতি অনুসরণ করেছে, তা স্পষ্ট নয়। হতে পারে, এটা তাদের স্বতন্ত্র ধারা। এমন হলে বিষয়টা আরও দোষনীয়। এভাবে একেক প্রকাশনী একেক বানানরীতির পসরা খুলে বসলে বিষয়টা পাঠকদের জন্য বেশ ভোগান্তির। তা ছাড়া নিজেরা স্বাবলম্বী না হলে ভালো কোনো প্রুফ রিডারকে দিয়ে প্রুফ রিডিং করিয়েও নেওয়া যায়। তারা যে হারে বইয়ের দাম নিচ্ছে, তাতে অন্তত নির্ভেজাল প্রমিত বানানে বইগুলো ছেপে আসবে, পাঠক এ প্রত্যাশাটুকু করতেই পারে। এতে প্রুফ রিডিংয়ে কিছু খরচ গেলেও তা দ্বিধাহীনতার সঙ্গেই সয়ে নেওয়া উচিত। বানানরীতির ভিন্নতা বলতে আমি মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়গুলোর কথা বোঝাচ্ছি না; বরং স্বাতন্ত্র্য শিরোনামে চোখে পড়ার মতো বিপুল পরিমাণ ভুল বানানের সন্নিবেশ ঘটেছে বইয়ে। কিছু বানান আবার স্থানভেদে পরিবর্তন হয়েছে। এটা হয়তো-বা টাইপিং মিসটেকের কারণে হয়েছে। ওয়াল্লাহু আ’লাম। সাংঘর্ষিক রীতিও অনুসৃত হয়েছে কিছু কিছু। এ ছাড়াও ভুল শব্দের প্রয়োগ বা সাধু-চলিতের মিশ্রণও ঘটেছে কিছু কিছু জায়গায়।

এবার আসি তথ্যগত বিষয়ে। দু-চার জায়গায় বইয়ের প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে একমত হতে পারিনি। যদিও বিষয়গুলো চর্বিতচর্বণ, এরপরও নমুনাস্বরূপ দুয়েকটা বিষয় উল্লেখ করছি :

১. পৃ. ১৮-তে রয়েছে : ‘তাঁদের (অর্থাৎ মৃত ওলি-আউলিয়া) অসীলায় সাহায্য প্রার্থনা ও ফরিয়াদ করা যাবে – ইত্যাকার কথা বিশ্বাস করা শিরক।’

মন্তব্য : তাওয়াসসুলকে সরাসরি শিরক বলে দেওয়াটা আপত্তিজনক। তা ছাড়া বিষয়টা নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে, এ দৃষ্টিকোণ থেকেও অন্তত একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করা যেত।

২. পৃ. ২২ ও ২৩-এ রয়েছে : ‘জাদু তো পরিষ্কার কুফর…। জাদু চর্চাকারী কাফির।… ইসলামি বিধানে জাদুকরকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।’

মন্তব্য : এ বিষয়েও এভাবে ঢালাওভাবে বিধান বর্ণনা করা আপত্তিজনক। প্রকারভেদে জাদু এবং জাদু চর্চাকারীর হুকুম বিভিন্ন হয়।

৩. পৃ. ২৭-এ রয়েছে : ‘যে ব্যক্তি তাবিজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে নিল, সে নিশ্চয়ই শিরক করল। তাবিজ ব্যবহারকারী যদি বিশ্বাস করে যে, এসব জিনিস আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়াই উপকার কিংবা অপকার করে তাহলে সে বড় শিরক করার দোষে দুষ্ট হবে। আর যদি সে বিশ্বাস করে যে, এগুলো উপকার-অপকারের একটি উপকরণ মাত্র; অথচ আল্লাহ তাআলা এগুলোকে রোগ বিনাশ-সংক্রান্ত কোনো উপকার বা অপকারের উপকরণ করেননি, সে ক্ষেত্রে সে ছোট শিরকের গুনাহ করার দোষে দুষ্ট হবে।’

মন্তব্য : প্রথম প্রকার তাবিজ যে হারাম হবে এবং তা ব্যবহারকারী মুশরিক হবে, তা স্পষ্ট। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকারের তাবিজকেও শিরকের সারিতে নিয়ে ফেলা আপত্তিজনক। উল্লেখ্য, ওপরের সঞ্চয়নের প্রথম বাক্যটা হাদিস শরিফের অনুবাদ। এর প্রচলিত অর্থ হলো, ‘যে তাবিজ ঝোলাল’।

৪. পৃ. ৪০-এ হারামের তালিকায় রয়েছে : ‘পেঁয়াজ-রসুন কিংবা দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু খেয়ে মাসজিদে আসা।’

মন্তব্য : এগুলো খেয়ে মসজিদে আসাকে মাকরুহ বলা হয়। হারাম বলার জন্য যে স্তরের দলিল দরকার, পেঁয়াজ-রসুনের ক্ষেত্রে তা রয়েছে কি?

৫. পৃ. ৬৮-তে রয়েছে : জুমআর আযানের পরে কেনাবেচা করা।… আলেমগণ আযান থেকে শুরু করে ফরয নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনাবেচা ও অন্যান্য সকল কাজকর্ম হারাম বলে উল্লেখ করেছেন।… আলেমগণের জোরালো মতানুসারে এ সময়ের কেনাবেচা বাতিল বলে গণ্য হবে।

মন্তব্য : এটাও মাকরুহ। হারাম নয়। কেনাবেচা করলে তা বাতিল হবে না। আর এটাই দলিলের বিচারে অধিক শক্তিশালী মত।

৬. পৃ. ৩২-এ রয়েছে : ‘কোনো মানুষকে কাযীউল কুযাত’ বা ‘বিচারকদের উপরস্থ বিচারক’ বলা যাবে না।

মন্তব্য : ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর উপাধি ছিল কাযীউল কুযাত। চার মাজহাবের অনেক বড় ইমামই এই উপাধিধারী ছিলেন।

বইয়ের কিছু কিছু বক্তব্য ছিল অনেক হৃদয়স্পর্শী। যা থেকে শেখার রয়েছে অনেক কিছু। উদাহরণস্বরূপ :

১. জাহেলি তথা অনৈসলামি আইনকানুন দ্বারা পরিচালিত বিচারালয়ের নিকট সন্তুষ্টচিত্তে, স্বেচ্ছায় ও বৈধ জ্ঞানে বিচার প্রার্থনা করা এবং এরূপ বিচার প্রার্থনার বৈধতা আছে বলে আকিদা পোষণ করা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত। (পৃ. ২১)

উল্লেখ্য, উপরিউক্ত বাক্য ‘বৈধ জ্ঞানে’ এবং ‘বৈধতা আছে বলে আকিদা পোষণ করা’ এ দুই কথার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাইনি। হতে পারে ‘বৈধ জ্ঞানে’-এর জায়গায় অন্য কোনো শব্দ প্রয়োগ হবে। মূল বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে নিশ্চিত হওয়া যেত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মূল বইয়ের নাম জানতে পারিনি।

২. আধুনিক কিছু শব্দ ও পরিভাষাও রয়েছে, যা তাওহিদের পরিপন্থী। যেমন : ইসলামি সমাজতন্ত্র, ইসলামি গণতন্ত্র, জনগণের ইচ্ছাই আল্লাহর ইচ্ছা, দীন আল্লাহর আর দেশ সকল মানুষের, জাতীয়তাবাদের নামে শপথ, বিপ্লবের নামে শপথ করে বলছি ইত্যাদি।… অনুরূপভাবে কোনো কাফের বা মুনাফিকের ক্ষেত্রে সম্মানসূচক ‘সায়্যিদ’ তথা ‘জনাব’ বা অন্য ভাষার অনুরূপ কোনো শব্দ ব্যবহার করাও সিদ্ধ নয়। (পৃ. ৩২)

৩. নিয়ম হলো, সন্তানদের সবাইকে বিশেষ কোনো উপহার সমান হারে দিতে হবে; আর না হলে কাউকে দেওয়া যাবে না। নিয়ম লঙ্ঘন করে সন্তানবিশেষকে দেওয়া ও অন্যদের বঞ্চিত করা ঠিক নয়। শরয়ি কারণ ব্যতীত এরূপ দান করলে তা হারাম বলে গণ্য হবে। শরয়ি কারণ বলতে সন্তানদের একজনের এমন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যা অন্যদের নেই। (পৃ. ৭৯)

এ ছাড়াও লটারি বা বীমাও যে জুয়ার অন্তর্ভুক্ত, তা-ই বা আমাদের সমাজের ক’জন জানে! তাই বইটি অনেকের সামনে অনেক অজানা দুয়ারও উন্মুক্ত করবে ইন শা আল্লাহ।

পরিশেষে লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক ও প্রকাশকের জন্য শুভকামনা। আল্লাহ তাআলা এ বই-সংশ্লিষ্ট সবাইকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আমিন।

Share This