ইমারাহ ও খিলাফাহ : পরিচিতি, বিধান ও পার্থক্য

ইমারাহর প্রকারভেদ ইমাম ইবনু জামাআহ রহ. তাহরিরুল আহকাম গ্রন্থে লেখেন : الإمارة قسمان: عامة وخاصة. أما الإمارة العامة: فهي الخلافة. ইমারাহ দুই প্রকার : সাধারণ ও বিশেষ। সাধারণ ইমারাহ হলো খিলাফাহ।[1] সুতরাং বোঝা গেল, ইমারাহ শব্দটি খিলাফাহ শব্দের তুলনায় ব্যাপক। ইমারাহ শব্দের একটি ব্যবহার হলো খিলাফাহর সমার্থক। তবে ইমারাহ শব্দটি খিলাফাহ ছাড়া অন্যান্য নেতৃত্ব ও […]

আমাদের তড়িৎপ্রবণতা

এই যে মানুষজন কিতালের বিরোধিতা করে, এর অন্যতম কারণ হলো কিতালপন্থীরা তাদের পরিকল্পিত কিতালকে জনসমক্ষে যথার্থভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি। মানুষ যেকোনো নতুন জিনিস গ্রহণ করতে খানিকটা সংকোচ ও ইতস্তত বোধ করে। চিন্তাশীল মানুষরা চিন্তাশক্তি খাটাতে কিছুটা সময় নেয়। এর ওপর বিষয়টা যদি হয় ধোঁয়াশায় আচ্ছাদিত, তাহলে তা গ্রহণ করা তো কিছুটা দুষ্করই হয়ে যায়। একটা […]

হুসাইন ইবনে মানসুর হাল্লাজকে নিয়ে সাদামাটা কিছু কথা

কিছু সাদামাটা কথা বলি। কার পছন্দ হলো আর কার আঁতে ঘা লাগল, বরাবরের মতোই তা দেখার বিষয় নয়। আমাদেরকে শরিয়াহ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শরিয়াহর আলোকে জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান করার আদেশ করা হয়েছে। আলিমগণও শরিয়াহর আলোকেই ফাতওয়া দিয়ে থাকেন। ফাতওয়া এবং বিচার পরিচালনা করার জন্য সবার থেকে আড়াল করা গোপন কোনো বিধান, সংবিধান, আইন ও […]

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের একমাত্র কার্যকর ফর্মুলা

জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতি হলো রোহিঙ্গা জাতি। ১৯৮২ সালের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। এ ছাড়াও রোহিঙ্গাদের আন্দোলনের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা এবং সরকারি চাকরির অধিকার হরণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা ১৯৭৮, ১৯৯১-১৯৯২, ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৬-২০১৭ সালে সামরিক নির্যাতন এবং দমনের সম্মুখীন হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাতে অপারেশন ক্লিয়ারেন্স নামে […]

রোহিঙ্গা : অতীত থেকে বর্তমানে

অতীতের সেই যুগের কথা না হয় বাদই দিলাম, যখন বাঙালিরা প্রাণ রক্ষার্থে রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি আরাকানে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। রোহিঙ্গারা বারবার প্রতারিত হয়েছে। তাদেরকে একের পর এক ধোঁকায় ফেলা হয়েছে। তারা যোগ্য নেতৃত্ব পায়নি। তাদের ভেতরেও চেতনা ছিল। তারাও গুরাবা ও সাহায্যপ্রাপ্ত জামাআত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। আরাকান আর্মি অমুসলিম হয়েও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সাধ্যমতো প্রতিশোধ নিচ্ছে। […]

শাসক ছাড়া জিহাদের বিধান

কিছু মানুষ এ কথা বলে বেড়ায় যে, শাসক ছাড়া কোনো জিহাদ নেই। শাসকের অনুপস্থিতিতে যেসব লড়াই সংঘটিত হয়, তা সবই ফিতনার লড়াই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সালাফে সালেহিন ও উম্মাহর ইমামগণের ইজমা অনুযায়ী এ মতের কোনো ভিত্তি নেই। এটি একটি স্পষ্ট ভ্রান্ত মত, যা সুস্পষ্ট আয়াত ও হাদিস এবং শরয়ি নীতি ও ফিকহি মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক৷ […]

কুরবানির চামড়া সংগ্রহ : প্রসঙ্গ-কথা

কুরবানিকে কুরবানি করার চেতনা কুরবানি নিজেই কুরবানি। কুরবানিকে পুনরায় কুরবানি করার কিছু নেই। প্রত্যেক জাতির আনন্দের দিন থাকে। মুসলমানদের আনন্দের দিন বছরে দুটো। এ দুই দিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিরানন্দে ছেয়ে দেওয়ার কোনো অর্থ নেই। ইবাদতের পন্থা সুনির্ধারিত। ইবাদতের পন্থা শুদ্ধভাবে শিখতে হলে তাকাতে হবে রাসুল এবং সাহাবিদের সিরাতের দিকে। তারা যেভাবে করেছেন, তা-ই বিশুদ্ধ এবং যথার্থ […]

সুহৃদ সমালোচকদের বলছি

মানুষের আস্থার জায়গা নষ্ট করবেন না এই নীতি কি আসলে মানা হয়? এমনকি যারা এই নীতি বেশি কপচায়, তারাও কি আদৌ এটা মানে? প্রথমে আমরা এর কিছু দৃষ্টান্ত দিই। দৃষ্টান্ত শুধুই বোঝার জন্য। এমন নয় যে, যাদের দিয়ে দৃষ্টান্ত দিচ্ছি, আমি তাদের সবার অনুসারী বা তাদেরকে ভালোবাসি। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া, হাফিজ ইবনুল কায়্যিম, […]

আকাবিরদের সবক

ভারতবর্ষে যখন ইংরেজদের বিরুদ্ধে আকাবির উলামায়ে দেওবন্দের তত্ত্বাবধানে লড়াই শুরু হয়েছিল, তখনকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা অতীব প্রয়োজন। সে সময় শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলবি রহ. ‘দারুল হারব’-এর ফাতওয়া জারি করেছিলেন। এই ফাতওয়ার ওপর এই অঞ্চলের সবার ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আমার জানামতে এমন কোনো প্রমাণ নেই। হ্যাঁ, অনেকেই হয়তো মেনে নিয়েছিল। আবার অনেকে হয়তো ভিন্নমতও পোষণ […]

দাজ্জালি মিশনে জাদুর গুরুত্ব

দাজ্জালের জন্ম হয়েছে অনেক আগেই। রাসুলুল্লাহ সা.-এর সময়েই সে ছিল বর্তমান। দাজ্জাল এই পৃথিবীতেই রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এর আগে সে ঘুমিয়ে থাকবে বা হাত-পা গুটিয়ে নিভৃতে বসে থাকবে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। চূড়ান্ত আত্মপ্রকাশের আগে নেপথ্যে থেকে খলনায়কের ভূমিকা পালন করা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ফিরআউনও নিজেকে রব দাবি করেছিল। দাজ্জালও নিজেকে রব […]