ক. কেউ দেওবন্দ মাদরাসায় পড়লে কিংবা দেওবন্দি ধারার কোনো মাদরাসায় পড়লেই নিজেকে দেওবন্দি বলে পরিচয় দেওয়ার যোগ্য হয় না। দেওবন্দি হতে হলে দেওবান্দিয়াতকে আঁকড়ে ধরতে হয়। দেওবান্দিয়াতকে ছেড়ে শুধু দেওবন্দ মাদরাসায় পড়ে কেউ দেওবন্দি হয় না।

খ. একটা হলো দেওবান্দিয়াত। আরেকটা হলো দেওবন্দি আলিমগণের কাজ। দেওবন্দি আলিমরা যা কিছুই করবেন, তা সবই দেওবান্দিয়াতের অংশ হওয়া জরুরি নয়। উদাহরণস্বরূপ : জমিয়ত করা দেওবান্দিয়াতের অংশ নয়। দারুল উলুম দেওবন্দের মতো হুবহু নেসাব রাখা দেওবান্দিয়াতের অংশ নয়। সুতরাং মাদানি নেসাবকে দেওবান্দিয়াতের বাইরে ভাবার সুযোগ নেই। হুবহু নেসাব রাখাই যদি দেওবান্দিয়াত হতো, তাহলে খোদ দেওবন্দ মাদরাসাই আর দেওবান্দিয়াতের মধ্যে থাকত না। কারণ, শুরুর জামানার নেসাব আর এখনকার নেসাব এক নয়। একইভাবে বাংলাদেশের বেফাকের নেসাব আর দারুল উলুমের নেসাব এক নয়।

গ. দেওবান্দিরা আকিদায় মাতুরিদি, তবে ক্ষেত্রবিশেষ আশআরি মাজহাবের আলোকেও ফতোয়া দিয়ে থাকে। ফিকহে তারা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। এখন কেউ যদি আকিদায় সালাফি হয়ে যায় কিংবা ফিকহে লা মাজহাবি (গাইরে মুকাল্লিদ) হয়ে যায় তাহলে সে আর দেওবন্দি থাকবে না; এমনকি সে দেওবন্দ মাদরাসা থেকে শিক্ষা সমাপনকারী কিংবা দেওবন্দি ধারার কোনো মাদরাসার শিক্ষক হলেও। কোনো সালাফি বা গাইরে মুকাল্লিদ যদি নিজেকে দেওবন্দি বলে পরিচয় দেয় তাহলে সে মিথ্যুক ও ধোঁকাবাজ। স্বঘোষিত সালাফি বা গাইরে মুকাল্লিদ হওয়া জরুরি নয়; অঘোষিতদের ক্ষেত্রেও একই কথা।

ঘ. দেওবন্দি না হলেই যে বাতিল বা জাহান্নামি হয়ে যাবে, তা বলা হচ্ছে না। এই লেখার আলোচ্যবিষয় হক-বাতিল নির্ণয় নয়; বরং আলোচ্যবিষয় হলো, নিজেকে দেওবন্দি বলে পরিচয় প্রদানের যথার্থতা। আজহারিরা বা মাদানিরা দেওবন্দি নয়। তাই বলে তারা বাতিল বা জাহান্নামিও নয়। তানজিমের সাথিরাও ব্যাপকভাবে দেওবন্দি নয়। এই দেওবন্দি না হওয়াটা তাদের বাতিল হওয়ার কোনো প্রমাণ নয়। সুতরাং দুটো বিষয়ের মধ্যে তালগোল পাকানোর কোনো অর্থ নেই।

ঙ. কেউ যদি পরবর্তীতেও সালাফি বা গাইরে মুকাল্লিদ হয়ে যায় তাহলে তার সনদ কাটা যায়। এমনকি হাদিসের সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও মুহাদ্দিসগণ সাধারণত কিছু শর্তারোপ করেন। সেগুলোর অন্যথা করলেও নিজেকে তাদের দিকে নিসবত করার যোগ্যতা রহিত হয়ে যায়।

চ. আকাবিরের ভুল কখনো দলিল হয় না। ভুলের ক্ষেত্রে কারও অনুসরণই জায়িয নেই। সুতরাং কোনো দেওবন্দি আলিমের ভুল আঁকড়ে ধরার নাম দেওবান্দিয়াত নয়; বরং ভুলকে এড়িয়ে যাওয়া আর পাশাপাশি তার সম্মান বজায় রাখার নাম দেওবান্দিয়াত। কারও নিরেট ব্যক্তিগত অভিরুচি, বিচ্ছিন্ন মতামত কিংবা কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী কোনো ভুল আমলকে যারা আঁকড়ে ধরে, তারা অন্ধ। মুকাল্লিদ হতে গেলেও চক্ষুষ্মান হতে হয়। একমাত্র আল্লাহ এবং তার রাসুল ছাড়া কারও নিঃশর্ত অনুসরণ জায়িয নয়।

Share This